তারায় আঁকা ছবি, নীহারিকা

পৃথিবীতে মানুষ যেদিন থেকে জানতে শিখেছে,বুঝতে শিখেছে সেদিন থেকেই মানুষের মনে উঁকি দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ধীরে ধীরে মানুষ সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে এবং জানতে পেরেছে এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে।মহাবিশ্বের নানা অজানা বস্তুর মতই একটি বিস্ময়কর বস্তু হলো  নীহারিকা।

 

নীহারিকা(Nebula) শব্দটি  ল্যাটিন শব্দ “Nebulasথেকে এসেছে,যার অর্থ “মেঘ”। সহজ ভাষায় নীহারিকা হলো ধুলিকণা,হাইড্রোজেন গ্যাস ও প্লাজমার সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃনাক্ষত্রিক(Interstellar) মেঘ। সর্বপ্রথম নীহারিকার কথা পাওয়া যায় ১৫০ খৃষ্টপূর্বাব্দে টলেমির এক বইয়ে ,যেখানে তিনি ৫টি তারার কথা উল্লেখ করেন যাদেরকে কুয়াশাচ্ছন্ন বলে মনে হয়। আসলে তিনি যা দেখেছিলেন তা হলো “তারকাগুচ্ছ(Star Cluster)” যা মূলত অনেকগুলো তারার সমন্বয়ে গঠিত। প্রকৃত নীহারিকার কথা উল্লেখ পাওয়া যায় পারস্যের জ্যোতির্বিদ “আব্দ আল রহমান আল সূফী”_র “Book of fixed stars” বইয়ে ,যেখানে তিনি এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সীর নিকট একটি মেঘ এর কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ১০৫৪ সালে আরবী ও চাইনীজ জ্যোতির্বিদরা একটি সুপারনোভা থেকে উৎপন্ন নীহারিকা আবিষ্কার করেন। কালপুরুষ নীহারিকা(Orion Nebula) আবিষ্কৃত হয় ১৬১০ সালে,কিন্তু, বিশদ ব্যাখাসহ কালপুরুষ নীহারিকার কথা উল্লেখ করেন “ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন” নামক এক বিজ্ঞানী ১৬৫৯ সালে। এরপর ১৮ শতকে এডমন্ড হ্যালী,চার্লস ম্যাসীয়ার,উইলিয়াম হার্শেলসহ আরও কয়েকজন বিজ্ঞানী বেশ কিছু নীহারিকার খোঁজ পান। পরবর্তীতে এডুঈন হাবল,ভেস্টো স্লাইফার সহ আরও বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী বিভিন্ন নীহারিকা থেকে আগত রশ্মির বিকিরণ বর্ণালি পরীক্ষা করে নীহারিকার প্রকারভেদ তৈরী করতে সক্ষম হন।

 

নীহারিকার একদিকে যেমন অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে তেমনি তাদের গঠনেও রয়েছে বিভিন্নতা। আমরা আগেই বলেছি নীহারিকা হলো একধরনের আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ, অর্থাৎ নীহারিকার অবস্থান মূলত বিভিন্ন নক্ষত্রের মাঝে। আমদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সীর সবচেয়ে কাছের নীহারিকা হলো “হেলিক্স নীহারিকা”, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। ঠিক তেমনি পৃথিবী থেকে দেখা যাওয়া সবচেয়ে উজ্জ্বল নীহারিকা হলো,”কালপুরুষ নীহারিকা”, যা প্রায় পৃথিবী থেকে ১৩৪৪±২০ আলোকবর্ষ দূরে। কিছু কিছু নীহারিকা গঠিত হয় আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস থেকে যা মহাকাশে আগে থেকেই ছিলো, বিশাল আকারের মেঘগুলো ঘনীভূত হয়ে নীহারিকার তৈরী করে। আবার কিছু কিছু নীহারিকা তৈরী হয় “সুপারনোভা” থেকেযা হলো একপ্রকার নক্ষত্রের বিস্ফোরণ,যার মাধ্যমে একটি বিশাল নক্ষত্র (আকারে সূর্যের থেকে কমপক্ষে ৮-১০ গুণ বড়), তার জীবনকালের শেষভাগে একটি শ্বেত বামন থেকে ব্ল্যাকহোল/নিউট্রন স্টার এ পরিণত হয় অথবা একদম ধ্বংস হয়ে যায়। এই প্রকান্ড বিস্ফোরণের ফলে যে বস্তুসমূহ নির্গত হয় তা প্রচন্ড শক্তিতে আয়নিত হয়ে ঘন মেঘের সৃষ্টি করে এবং দৃশ্যমান হয়। সুপারনোভা থেকে গঠিত নীহারিকা  কে বলা হয় “সুপারনোভা নীহারিকা(Supernova Remnant)”,  যেমনঃ কাঁকড়া নীহারিকা(Crab Nebula)এছাড়াও অন্যান্য নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ থেকে গঠিত নীহারিকা কে বলা হয় “গ্রহ নীহারিকা(Planetary Nebula)”, যেমনঃ রিং নীহারিকা(Ring Nebula)

 

নীহারিকা একদিকে যেমন নক্ষত্র থেকে সৃষ্টি হয়,তেমনি নীহারিকা আবার নক্ষত্রের জন্ম ও দেয়।এধরনের নীহারিকা কে বলা হয় “বিকীরিত নীহারিকা(Emission Nebula)”, এধরনের নীহারিকার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম গ্যাস ঘনীভূত হয়ে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এর সৃষ্টি করে, যা একটি নক্ষত্রে পরিণত হয়,এধরনের একটি নীহারিকা হলো, “কালপুরুষ নীহারিকা(Orion Nebula)”

 

নীহারিকার শ্রেণি বিভাজন

রাতের আকাশে পৃথিবী থেকে বা মহাকাশীয় দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নীহারিকাগুলো যে ভাবে দেখা যায়, তার ভিত্তিতে কিছু বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনা করে নীহারিকার প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—

পরিব্যাপ্ত নীহারিকা (Diffuse nebula)
অধিকাংশ নীহারিকাই পরিব্যাপ্ত শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এই জাতীয় নীহারিকার উপাদানগুলো বেশ বিস্তৃত অবস্থায় ছড়ানো থাকে। এদের কোনো সুনির্দিষ্ট সীমানা থাকে না। এই জাতীয় নীহারিকা থেকে আগত দৃশ্যমান আলোর বিচারিকাগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। ভাগ দুটি হলোবিকিরিত নীহারিকা (Emission Nebula) প্রতিফলিত নীহারিকা (Reflection Nebula)

Diffuse Nebula ,NGC 1499

বিকিরিত নীহারিকা (Emission Nebula)

এই জাতীয় নীহারিকার আয়নিত গ্যাস থেকে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে আয়নিত হাইড্রোজেন গ্যাস) বিকিরিত আলো নীহারিকাকে উজ্জ্বল করে রাখে। এদেরকে অনেক HII (আয়োনিত হাইড্রোজেন) সময় বলা হয়। যেমনM42,M43।

Emission Nebula, ngc60

প্রতিফলিত নীহারিকা (reflection nebula)

এই জাতীয় নীহারিকার উপাদানসমূহ নিজে কোনো আলো উৎপন্ন করে না। বরং নীহারিকার অভ্যন্তরের নক্ষত্রসমূহ নীহারিকার উপাদানসমূহে পতিত হয় এবং ওই আলো নীহারিকার  উপাদানসমূহ  দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এই জাতীয় নীহারিকায় হাইড্রোজেনের অণু থাকে। এই কারণে একে অনেক সময় আণবিক মেঘ (Molecular cloud) বলা হয়। এই আণবিক মেঘমণ্ডলে রয়েছে, কালপুরুষ নক্ষত্রের NGC 1990 এবং এম৭৮ একটি নীহারিকা।

অনেক সময় নীহারিকার গভীরে অবস্থিত নক্ষত্রের আলো নীহারিকার বাইরের অংশ আয়োনিত দশায় আলো দ্বারা উজ্জীবিত হয় না বা অন্যা কোনো নক্ষত্রের আলোকে প্রতিফলিত করে না।  তখন এই জাতীয় নীহারিকার চারপাশের আলোর আভা দেখা যায় কিন্তু মূল নীহারিকাকে কালো দেখায়। এই জাতীয় নীহারিকাকে অন্ধনীহারিকা (dark nebulae) বলা হয়।

অন্ধ-নীহারিকা 'অশ্বমুণ্ড'

হান্বিত নীহারিকা (Planetary nebula)

এই জাতীয় নীহারিকার একটি গ্যাসীয় খোলস থাকে। এর ভিতরে শ্বেত বামন তারা (white dwarf star) থাকে। এই তারা থেকে আগত আলো, গ্যাসীয় খোলসকে উজ্জ্বল করে রাখে। মূলত শ্বেত বামন নক্ষত্রকে ঘিরে একটি বিশাল মহাকাশীয় মেঘমালা আবদ্ধ হয়ে থাকে এবং নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। এই অবস্থায় শ্বেত বামন তারা আলো ওই মেঘকে আলোকিত করে এবং মেঘমালায় নানা রকম বর্ণের সৃষ্টি করে। এই জাতীয় নীহারিকা দেখা যায় নক্ষত্র উৎপন্ন হওয়ার  উপযোগী মহাকাশীয় মেঘমালায়। আয়োনিত হাইড্রোজেন থাকায় এদের প্রকৃতি হয় অনেকটা বিকিরিত নীহারিকার মতো। ধারণা করা হয়, আমাদের সূর্য এক সময় গ্রহান্বিত নীহারিকায় পরিণত হবে।

গ্রহান্বিত নীহারিকা 'বিড়ালাক্ষি'

প্রাক্-গ্রহান্বিত নীহারিকা (Protoplanetary nebula):

 

কোনো প্রধান ধারার নক্ষত্র যখন ক্রম বিবর্তনের মধ্য দিয়ে শ্বেত বামনে পরিণত হয়, তখন যে অন্তর্বর্তী সময়ে এই জাতীয় নীহারিকার সৃষ্টি হয়। যখন কোনো নক্ষত্র তার জীবনকাল শেষ করে, তখন নক্ষত্র প্রচুর পরিমাণ ভর হারায়। এর ফলে নক্ষত্রের বাইরের হাইড্রোজেন খোলস হাল্কা হয়ে যায়। একসময় এই নক্ষত্র হাইড্রোজোনের খোলস মুক্ত হয়ে নগ্ন হয়ে যায়। এই অবস্থায় নক্ষত্রকে ঘিরে হাইড্রোজনের হাল্কা কুয়াশা থেকে যায়। নক্ষত্রের এই দশাতে দূর থেকে কুয়াশাঘন আবরণের ভিতর দিয়ে নক্ষত্রকে রঙিন দেখায়। নক্ষত্রের দশাকেই প্রাক্-গ্রহান্বিত নীহারিকা বলা হয়।

প্রাক্-গ্রহান্বিত নীহারিকা PIA04533

কয়েকটি নাহারিকা

কালপুরুষ নীহারিকা (Orion Nebula):

এটি মেঘ, গ্যাস ও ধূলিকর্ণা দ্বারা গঠিত মিল্কিওয়ের দক্ষিনে অবস্থিত বিকীর্ণ নীহারিকা যা অন্যতম উজ্জ্বল নীহারিকা। কালপুরুষ রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা যায়। এর অবস্থান ১৩৪৪+/-২০ আলোকবর্ষ দূরে। এটি পৃথিবীর নিকটবর্তী বড় তারা গঠন অঞ্চলে অবস্থিত। এই নীহারিকা অনুমান করা হয়েছে ২৪ আলোকবর্ষ জুড়ে। কালপুরুষ নীহারিকাটি রাতের আকাশে সর্বোচ্চ যাচাইকৃত। তারা ও পৃথিবীর গঠন সম্পর্কে কালপুরুষ নীহারিকা অনেক তথ্য প্রকাশে সহায়তা করেছে।
১৬১০ সালে এটি আবিষ্কারের পর ফেহান ব্যস্পটিস্ট নামক এক ব্যক্তি ১৬১৮ সালে এটি পর্যবেক্ষণ করেন ও এই নাহারিকা সম্পর্কে ১৬৫৯ সালে পুরোপুরি তথ্য জানা যায়। ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন  নামক আরেক জ্যোতিবিদ এই সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করেন। এর আগে পুরাতন গ্রন্থ গুলোতে কালপুরুষ নীহারিকাকে “গ্রেট নীহারিকা” বা “গ্রেট কালপুরুষ নীহারিকা” বলা হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় নীহারিকা সম্পর্কে আমাদের ধারণা প্রাচীন।

কালপুরুষ নীহারিকা,M42

বুমেরাং নীহারিকা (Boomerang Nebula):

বুমেরাং অর্থ বাঁকা তীর বা ক্ষেপণাস্ত্র। এটি একটি প্লেটোপ্লানেটারি নীহারিকা যা পৃথিবী থেকে ৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরে সেন্টারাস নক্ষত্রমন্ডলে অবস্থিত। একে বোটাই নীহারিকাও বলা হয়ে থাকে। এটিকে একটি নক্ষত্র ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হয় যা প্লানেটারি অবস্হায় গ্রহের দশার চতুর্দিকে পাক খাচ্ছে। এর অভ্যন্তরীন গ্যাসের নিঃসরণের ফলে এর গঠন প্রক্রিয়া চলছে যেখানে একটি নক্ষত্র পরবর্তী জীবনে ভর হারিয়ে আলো বিকিরিত করতে থাকে। এই গ্যাসের বহির্গমনের বেগ প্রায় ১৬৪ কিমি/সেকেন্ড এবং ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে এবং তা মহাশূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে; এই গ্যাসের বহির্গমনই নীহারিকার এত কম তাপমাত্রা কারণ।
১৯৮০ সালে জ্যোতিবিদ কেইথ টেইলর ও মাইক স্কারট অ্যাংলো-অস্ট্রেলীয় নভোবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে একে পর্যবেক্ষণপূর্বক “বুমেরাং নীহারিকা” নাম দেন। ১৯৯৮ সালে হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে একে পরিষ্কার দেখা যায় এবং তখন একে অনেকটা প্রতিসম বালিঘড়ি আকৃতির ন্যায় দেখায়। বুমেরাং নীহারিকার দৃশ্যমান দ্বৈত লোব একটি বৃহৎ ঠান্ডা গ্যাসের বর্তুল ভলিউম দ্বারা বেষ্টিত যা কেবল সাব-মিলিমিটার রেডিও তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করেই দেখা যায়। কেন্দ্রের তারার আলো নীহারিকার ধূলিকনার উপরে প্রতিফলিত হয়ে আলোকিত হয়ে উঠে। এটি এই পর্যন্ত জানা সবচেয়ে দুরের শীতলতম স্থান।

বুমেরাং নীহারিকা

হেলিক্স নীহারিকা (Helix Nebula):

হেলিক্স নীহারিকার  অবস্থান পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। এই নীহারিকাটি সমস্ত উজ্জ্বল গ্রহের সাপেক্ষে পৃথিবীর নিকটে অবস্থিত। “আই অব গড” নামে পরিচিত এই নীহারিকার বয়স ৯,৪০০ থেকে ১২,৯০০ বছর। ২.৮৭ আলোক বর্ষ ব্যসার্ধের এই নীহারিকা ভেতরের অংশ সেকেন্ডে ৪০ কিমি ও বাইরের অংশ সেকেন্ডে ৩২ কি.মি হারে প্রসারিত হচ্ছে। ১৮২৪ সালে জ্যোতিবিদ কার্ল লুডিগ হারডিং এই নীহারিকা আবিষ্কার করেন। “ঈশ্বরের চোখ” হিসাবে পরিচিতির পাশাপাশি নীহারিকাটি “আই অফ স্যারন” নামেও পরিচিত।

হেলিক্স নীহারিকা

গ্রহ নীহারিকা (Planetary Nebula):

এটি এক গ্যসীয় নীহারিকা। শ্বেত বামন তারা হওয়ার ঠিক আগে তারাটি লোহিত দানবে পরিনত হয়। এই লোহিত দানব তারাই তার বহির্ভাগ মহাকাশে নিক্ষেপ করে, আর অন্তর্ভাগ সংকুচিত হয়ে শ্বেত বামন গঠন করে। মহাকাশে নিক্ষিপ্ত ঐ গ্যাসই গ্রহ নীহারিকা গঠন করে। গ্রহ নীহারিকা আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে অনেক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। ছায়াপথের রাসায়নিক গঠন ও বিবর্তন বিষয়ে ধারণা পাওয়া এর অধ্যায়ন জরুরিএছাড়াও অন্য ছায়াপথের তথ্য লাভের ক্ষেত্রে এদের অবদান অনস্বীকার্য। এটি প্রথম ১৭৬৪ সালে চার্লস মেসিয়র পর্যবেক্ষণ করেন ও এম ২৭ তালিকাভূক্ত করেন পরে ১৭৮০ সালে উইলিয়াম হার্শেল তার টেলিস্কোপে এটি অবিষ্কার করেন। এই নীহারিকাটি অনেরটাই ইউরেনাস গ্রহের অনুরূপ। তাই এটিকে গ্রহ নীহারিকা বলা হয়ে থাকে।

গ্রহ নীহারিকা

লেগুন নীহারিকা (Lagoon Nebula):

এম৮ তালিকাবদ্ধ ধনু নক্ষত্রমন্ডলীতে অবস্থিত একটি জায়ান্ট ইন্টারস্টেলার মেঘ। এটি ৪১০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ও ৫৫×২০ আলোকবর্ষ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট। লেগুন নীহারিকা ১৬৫৪ সালে জ্যোতিবিজ্ঞানী জিওভান্নি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। এই নীহারিকাটি খালি চোখে পর্যবেক্ষণ করা যায়। আকাশের মধ্য-উত্তর অক্ষে তাকালে এই নাহারিকাটি দেখা যায়। টেলিস্কোপে এর আকার অনেকটা ডিম্বাকৃতির! পৃথিবীর আকাশে ৯০’ থেকে ৪০’ পর্যন্ত বিস্তৃতি পরিলক্ষিত হয় যা থেকে বোঝা যায় এর অবস্থান মোটামুটি ১১০ থেকে ৫০ আলোকবর্ষ পর্যন্ত। মানুষের চোখ এই রঙের প্রতি খুব কম সংবেদনশীল হওয়ায় টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলার দিয়ে পর্যবেক্ষ করলে নীহারিকাটি ধূসর দেখায়।

লেগুন নীহারিকা

এছাড়াও মহাকাশের গ্যালাক্সি গুলো জুড়ে রয়েছে আরো অনেক ধরণের নীহারিকা। যাদের কথা বললে শেষ হবে না। এই রহস্য ঘেরা আকর্ষণ আমাদের ভাবিয়েছে প্রাচীন যোগ থেকে আজকের দিন অবধি। এখনো হয়ত কেউ নতুন নীহারিকার সন্ধানে মহাকাশের দিকে টেলিস্কোপ কাত করে রেখেছে।
আমাদের প্রযুক্তি আরো যত উন্নত হবে মহাবিশ্বের রহস্য গুলো তত তারাতারি উৎঘাটিত হবে। নীহারিকা নিয়ে হয়ত জ্যোতির্বিজ্ঞানে আরো নতুন দ্বার উন্মচিত হবে।