|| নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর পত্রিকা ||  

অর্নেট এইড, অর্নেট রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে পরিচালিত একটি সামাজিক সংগঠন; সমাজ থেকে ক্ষুধা মুক্তি, আর্থিক মুক্তি ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে তারা। এই সংগঠনের বর্তমান ও স্বপ্ন নিয়ে আমাদের প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেছেন সংগঠনটি অন্যতম দায়িত্বশীল নীল সবুজ।

 

অর্নেট এইডের প্রতিষ্ঠা নিয়ে তিনি আমাদের জানান,

আমরা অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে জড়িত ছিলাম বা চেষ্টা করি যুক্ত থাকার। শিশু কিশোরদের মেধা ও মননের উন্নয়নের জন্য স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতাম। রোজার সময় এতিম বা পথশিশুদের সাথে ইফতারের আয়োজন করা, পথশিশুদের ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়া এরকম আরো অনেক কিছুই করা হয়েছে। কিন্তু সব কিছুই করা হত ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৫ ব্যাচের কিছু বন্ধুর ব্যক্তিগত উতসাহে। এইবার যখন করোনায় লকডাউন শুরু হয় তখন আমরা অসহায় ও সদ্য কর্মহীন মানুষদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করার কথা ভাবি এবং তখুনি অনুভব করি সাংগঠনিক নামে কাজ করার।

 

সংগঠনটির সাথে কারা জড়িত আছেন, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-

মূলত আমাদের “অর্নেট রেস্টুরেন্ট” এর মাধ্যমেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক সত্তার দিক থেকে কর্পোরেট সোশাল রেসপনসিবিলিটি অনুভব করতাম। সেখান থেকেই অর্নেট এইড এর পথচলার উদ্যোগ নেওয়া। বলতে পারেন অর্নেট এইড, অর্নেট রেস্টুরেন্ট এরই একটি চাইল্ড অর্গানাইজেশন।
 
আমাদের উদ্যোগের সাথে প্রত্যক্ষভাবে অর্নেট রেস্টুরেন্ট জড়িত।  কারণ প্রায় সময় আমরা দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ করতাম। রেস্টুরেন্ট থাকাতে মনে হত সমাজের অনেক মানুষ আছে যারা ঠিকমতন তিনবেলা খাবার খেতে পারেনা। তাই প্রায় সময়ই পথশিশু, রিকশাচালক, অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হত। পরবর্তীতে করোনাকালীন সময়ে শুকনা খাবার বিতরণ, আইসোলেশন ইউনিটে খাবার পৌঁছে দেওয়া, প্রজেক্ট তিন চাকার কাজ শুরু করি। অর্নেট এর বাইরে আগ্রাবাদ স্কুলের ২০০৫ ব্যাচের  বন্ধুদের অনেকেই আমাদের সাথে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আছে।

 

গত দুই ইদে তাদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানান,

আমরা দুই ইদেই খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। রোজার ইদের আগে থেকেই আমরা ফান্ড রেইজ করা শুরু করি যাতে যুক্ত আছে আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব, আগ্রাবাদ সরকারি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৫ ব্যাচ, অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক অপরিচিতরাও এগিয়ে এসেছে। সকলের সহায়তায় আমরা অনেকগুলো ইভেন্ট সাফল্যের সাথে সম্পাদন করতে সফল হয়েছি। এজন্যে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

অর্নেট এইড নিয়ে স্বপ্নের কথাও তিনি জানালেন,

স্বপ্ন আসলে ছোট একটা শব্দ, কিন্তু এর ব্যাপকতা অনেক গভীর। অর্নেট এইড নিয়েও আমাদের স্বপ্ন অনেক ব্যাপক। আমরা খুব শীঘ্রই আরো একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। তা হল রেস্টুরেন্টে যেসব গেস্ট আসবে তারা কিছু অতিরিক্ত প্লেটার কিনে রাখতে পারবে, পরবর্তীতে সাপ্তাহিক বা মাসিক হিসেবে মোট যে কয়টা প্লেটার হবে তা আমরা সমাজের ব্রাত্য শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিব। এই উদ্যোগ খুব দ্রুতই শুরু হবে।
এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে প্রজেক্ট তিন চাকার মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিতে অসহায় মানুষদের মধ্যে রিকশা বন্টন করার মাধ্যমে কিছু মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। প্রজেক্ট তিন চাকার ব্যাপারে একটু কথা না বললেই নয়। এই প্রজেক্টে আমরা প্রথমে আমাদের ফান্ড থেকে কিছু সংখ্যক রিকশা কিনে দিব কিছু দিনমজুর রিকশাচালকদের। তারা প্রতি সপ্তায় তাদের আয়ের একটা সামান্য অংশ, হতে পারে ১০০ বা ২০০ বা ৩০০ টাকা, যেটা তারা স্বেচ্ছায় আমাদেরকে দিবে। তাদের থেকে প্রাপ্ত আয় আমাদের ফান্ডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন রিকশা কিনা হবে এবং নতুন কোন দিনমজুর স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া ছিন্নমূল শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। মোটকথা আমরা মূলত তিনটা বিষয়কে জোর দিচ্ছি, ১. ক্ষুদা মুক্তি, ২. আর্থিক মুক্তি এবং ৩. শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। যদি সৃষ্টিকর্তার কৃপা থাকে তাহলে ছোট ছোট পায়ে অনেক দূর এগিয়ে যাব নিশ্চয়।

 

অর্নেট এইড এগিয়ে চলুক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তিতে উল্লেখযোগ্য সাক্ষর তারা রাখবে বলে আশা করছি। তাদের জন্য সুখবর পত্রিকার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভকামনা।

 

অর্নেট এইডের ফেসবুক পেইজ লিংকঃ

https://www.facebook.com/Ornate-Aid-109325747462445/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *