|| প্রতিবেদকঃ কলেজিয়েটস সাংস্কৃতিক সংঘ ||

যাত্রার শুরুটা ২০১৭ সাল। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে পথচলা এই সংঘটির, বলতে গেলে আমাদের জীবনের এক অত্যাবশ্যকীয় অংশরূপে আছে ‘কলেজিয়েটস সাংস্কৃতিক সংঘ’। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই সংঘটি, যার পেছনে অবদান রয়েছে অনেক মানুষের, অনেক সৃষ্টিশীল চিন্তা চেতনার এবং তিতিক্ষার। কেউ ভাবেনি যে সামনের দিনগুলো কেমন হবে, শুধু ভাবনা ছিলো আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে, ভরসা রেখে ও বিশ্বাসের সাথে। তারই ফলস্বরূপ হয়তো আজ সংঘের ৩ টি বছর পার হয়ে গেলো। অনেক বাধা পাড়ি দিয়ে ‘কলেজিয়েটস সাংস্কৃতিক সংঘ’ আজ তাদের পথচলা অব্যহত রেখেছে।

আমাদের শুরু থেকেই অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাত ধরে বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি ছিলো সুপ্ত প্রতিভাগুলোর বিকাশ সাধনে অনন্য অবদান রাখা। তবে বর্তমানে সে ভাবনার বিস্তৃতি ঘটেছে বহুদূর। আমরা চাই প্রতিভার বিকাশ সাধন শুধু এ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ না থাকুক, দেশের আনাচে কানাচের থাকা সেইসব সৃষ্টিশীল শিক্ষার্থীরাও যাতে তাদের সৃজনশীল চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে সমগ্র দেশের মানুষের কাছে তাই আমাদের এখন অন্যতম লক্ষ্য। আমরা চাই তারা বেড়ে উঠুক একজন উন্নত মানুষ হিসেবে, আর তা একমাত্র সুষ্ঠ ও অনন্য ভাবনার বিকাশ সাধনেই সম্ভব।

আমাদের এই ভাবনা ও লক্ষ্যকে মাথায় রেখে দেশব্যাপী আমাদের নিবেদন ছিল “ন্যাশনাল কালচারাল ফেস্ট (National Cultural Fest: Spark with creativity)”যেখানে দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৃষ্টিশীল, নীতিবান ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেয়া হয় তাদের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর।

সাংস্কৃতিক এই প্রতিযোগীতাটির আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল মাধ্যমে। দেশের করোনা মহামারির ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই এমন উদ্যোগ। এছাড়াও আমাদের চেষ্টা ছিলো এই আয়োজনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত করা। তাই খুব সহজ সরল বিধি বিধানের আওতায় আমরা সুযোগ করে দেই।

এই আয়োজনটি মূলত ২টি পর্যায়ে বিভাজন করা হয়েছিল। ১ম পর্যায়ে আমরা প্রতিযোগীদের সৃজনশীল কীর্তিগুলো সংগ্রহ করি। সময়সীমা ছিল ১৫ই অক্টোবর হতে ১০ই নভেম্বর। পরবর্তীতে ইভেন্টের মূল পর্যায়ে সেই সৃজনী ও শৈল্পিক কাজগুলো প্রদর্শিত হয় সংঘের ইউটিউব চ্যানেলে। এবং সর্বশেষ আমাদের দেশব্যাপী আয়োজনে বিচারকমন্ডলীর সূক্ষ্ম বিচারের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় অন্তিম ফলাফল। এবং পরবর্তীতে তাদের প্রাপ্তিগুলো তাদের নিকট পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সম্পূর্ণ আয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন (Munna’s Academy, Zahid’s Chem Clinic, DNA HSC Biology Medical Admission, ParcelX, Forever Living Products, Youth360, Radio Carnival, Shukhobor potrika, Kishor Alo) মতো নামকরা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য। তাদের সহযোগিতায় এবং অংশগ্রহণে আমরা সম্মানিত ও গর্বিত। আমাদের দেশব্যাপী আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। বিপুল পরিমাণ প্রতিযোগিতা তাদের সৃজনী কাজগুলোর বহিঃপ্রকাশ করতে আমাদের প্ল্যাটফর্মকে সানন্দের বেছে নিয়েছিলেন। মিলেছে যেমন অদ্ভুত সুন্দর সৃজনী কীর্তি তেমনি মিলেছে নকলকৃত কাজের একাংশ। কতটা নিচু তথাকথিত শিল্পমনা হলে বা বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিলো তারা! সূচনালগ্ন থেকে আমাদের যেমন প্রচেষ্টা ছিলো শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের মনন এর যথার্থ বিকাশ ঘটানো, তেমনি অন্যায়ভাবে মনন বিকাশে বাধা দেয়ার বিরুদ্ধে ছিলো কঠোর বাণী ও ব্যবস্থা। এবং সামনের দিনগুলোতেও এর কোনোরূপ ব্যতিক্রম হবে না। মূলত আমাদের আয়োজক দলা খুবই দক্ষতা ও সাহসের সাথে এইসব প্রতিকূলতাগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। ইভেন্টের বিচারক প্যানেল ছিলো স্বনামধন্য ও উঠতি ব্যক্তিত্বদের মিলনকেন্দ্র। আমাদের সাথে এই আয়োজনে ছিলেন (Faisal Azim, Joy Shahriar, Mujahidul Islam, Junaid Iqbal Ishmum, Md. Kamran Chowdhury, Md. Mubidur Rahman Sujat, Proma Abonti, Samrin Parvin) তাঁদের প্রতি রইলো অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এছাড়া আমাদের এই আয়োজনের সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের কথা উল্লেখ করতেই হয়৷ তারা আর কেউ নন, আমাদের আয়োজক দল ও ক্যাম্পাস এম্বাসেডরগণ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় আমাদের এই নিবেদন পেয়েছে সাফল্যের ছোঁয়া। যে আস্থা , ভালোবাসা ও দৃঢ়তা নিয়ে যেমন আমরা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছি, তেমনিভাবেই সামনের সম্ভাবনাময় দিনগুলোতেও এগিয়ে যাবো একাগ্র চিত্তে। খুঁজে যাবো সেই সৃজনী মানুষদের। থাকবে মনন বিকাশের নানা আয়োজন ও উৎসব। সর্বশেষ এ কথাটা বলতেই হয়, ‘স্বপ্নটা এখনের ছিলো না, স্বপ্নটা বহুদিনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *