প্রিয় কবিতারা। শিল্প-সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ। নবীন, প্রতিষ্ঠিত, প্রবীন কবি ও কবিতা প্রেমীদের নিয়ে গড়ে ওঠা বাংলা সাহিত্য মহাকাশের উদীয়মান নতুন ছায়াপথ ‘প্রিয় কবিতারা’। আর সেই ছায়াপথের স্থপতি কবি মিঠুন কুমার সমাদ্দার। ১৯৮৫ সালের ৫ ই জানুয়ারি, মাগুরা জেলার কুল্লিয়া গ্রামে জন্ম। কবির তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। 

 

গত ২৯ জুলাই , কবি মিঠুন কুমার সমাদ্দার এর সাথে মধ্যরাতে কথা হয়। কথা হয় কবির কবি হয়ে ওঠা নিয়ে, ‘প্রিয় কবিতারা’ নিয়ে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন করিম রিফাত

শৈশবের ফেলে আসা দিন গুলো কেমন ছিলো, কোনো স্মৃতি কি মনে পড়ে?    

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : ১৯৮৮ সালের বন্যায় আমি তখন তিন বছরের। আমাদের ওখানে প্রচন্ড বন্যা হয়েছিল। আমাদের বাড়িঘর জলের নিচে। তখন আমার বাবা আমাদের যে খাট, সেটা ঘরের ঢাপের সাথে বেঁধে বেট উঁচু করে দিয়েছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই জলের শব্দ শুনে শুনে বড় হয়েছি। আর বিলের ধারে বাড়ি তো, বুরাইল বিল। বিলের মাঝখান দিয়ে আবার খাল আছে। বড় খাল, ছোট খাল। তার উপর সে ফটকি নদী। আর আমাদের গ্রামের ঠিক অপর পাশে আসবা গ্রাম, বিলের ওপাশে দেখা যায়। ছোটবেলা থেকেই ওই গ্রামটাকে আমার রূপকথার দেশ বলে মনে হতো। তারপরে একটু বড় হয়ে যখন বিলে সাঁতার কাটতে শিখলাম; আরও বড় হয়ে যখন নৌকা বাইতে শিখলাম, তখন আমি নৌকা বেয়ে ওই আসবা গ্রামে গিয়েছিলাম। নদী দেখেছিলাম। জলের সাথে একটা মিতালী ছিল ছোটবেলা থেকেই।

‘কবিতার জন্য পাগল’ কী করে হলেন আর কবিতা লিখার চর্চাটা শুরু হলো কী করে?

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : কবিতা লিখবো কখনো ওইভাবে ভাবি নি। কিন্তু, ১৯৯৮ সালের  দিকে আমি ইন্ডিয়াতে যাই। ইন্ডিয়াতে যে এক বছর পড়াশুনা করেছি ক্লাস এইটে, তখন আমার অমিয় চক্রবর্তীর কোনো একটা কবিতা দেখে লেখার ইচ্ছে করেছিল। আমি অমিয় চক্রবর্তীর কোনো একটা কবিতা, ঠিক নকল বলা যায় না, অনুকরণেই আমি একটা কবিতা লিখেছিলাম। সে কবিতাটা অবশ্য হারিয়ে গেছে। তো, এরপরে অনেক লিখেছি ইন্টারমিডিয়েটে পড়া অবস্থায় সেন্ট জোসেফ কলেজে বার্ষিক যেসব সাহিত্য পত্রিকা গুলো বের হতো, কবিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটা কবিতা রিজেক্টও হয়েছে। যেগুলো বের হয়েছিল, সেগুলোই ছিল অনুপ্রেরণা। তারপরেই আমি, একটা কবিতা যখন বের হলো, এরপর অনেকগুলো কবিতা পরপর করে লিখে ফেলি এবং ডায়েরিতেই ছিল লেখাগুলো।২০০৫ এ যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হলাম, তখন আবৃত্তি সংগঠন  ওংকার শৃৃৃৃৃণুতা , সাহিত্যে সংগঠন ব-পাঠে যুক্ত হওয়ার পরে দেখেছি, ওখান থেকে অনেক পত্রিকা বেরোয়। সাপ্তাহিক পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা, তো সেগুলো দেখেই মূলত সাহিত্যের প্রতি আমার অনুরাগ জন্ম নেয় এবং প্রথম ‘চর্যাপুরাণ’ নামে একটা পত্রিকায় কাজ করেছিলাম। ওখানের পত্রিকায় আমি কবিতা দিয়েছিলাম। এরপর ব-পাঠে একটা পত্রিকা বের হতো, কিন্তু ওইখানে আমার কোনো কবিতা নিচ্ছিলো না(হাসি)। কারণ উনারা বলতো উনাদের একটা নিজস্ব কবি সার্কেল আছে, সেখান থেকে নেয়। আমার মনে হলো, নতুনদের নিয়ে কাজ করা উচিত। যারা চায়ের দোকানে বসে লেখে বা চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়, আড্ডায় সাহিত্যের কথা উঠে আসে। যারা নতুন, যারা লিখছে তাদের প্রকাশ করা দরকার। কারণ একবার কারো কবিতা প্রকাশ পেলে সেটার যে অনুপ্রেরণা, সেটা অনেক বিরাট একটা ব্যাপার। তো সেখান থেকেই মূলত আমার যে প্রথম নিজস্ব পত্রিকার কাজ শুরু, ‘ছায়াবৃত্ত’, ২০০৭ সালে। সেখান থেকেই আমার শুরু হয়। একটা বৃত্ত হবে, গোল হয়ে সবাই বসবে। গোল হয়ে বসে সবাই কবিতা লিখবে এবং সেই সার্কেলের ভেতরে একটা জায়গা ফাঁকা থাকবে। সেখানে নতুন মানুষ এসে সে সার্কেলটাকে ধীরে ধীরে বড় করবে এবং সবাই কবিতা লিখবে মুক্তভাবে। সেভাবেই মুক্ত চিন্তার ছোটকা গজ ‘ছায়াবৃত্তের’ জন্ম হয়। এবং শুরু করি কাজ ২০০৭ সালে। এরপরে ধীরে ধীরে আটটা সংখ্যা বের করেছিলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন অবস্থায় এরপরে ইচ্ছে ছিল যে ‘ছায়াবৃত্ত’ নিয়ে সারাজীবন কাজ করবো, তাই ছায়াবৃত্ত টাকে রেজিস্ট্রেশন করে নি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখানে ছায়াবৃত্তের একটা পাঠক ফোরাম করে দিয়ে এসেছিলাম, রেজিস্ট্রেশন করে। তো এভাবেই শিল্প সাহিত্যের সাথে যুক্ত হয়েছি। অন্যান্য পত্রিকাতে ও লেখা দিয়েছি। লেখা দেওয়ার থেকে সবচেয়ে বড় কথা হলো, লোকজনকে সাথে নিয়ে কাজ করতেই বেশি ভালো লাগে। কেউ একটা কবিতা লেখলে আমার মনে হয় যে আমি লিখেছি। তখন গভীর আনন্দ উপলব্ধি আসে, আনন্দ অনুভব করি প্রচন্ড। তো, এরপরে জার্মানিতে আসার পরে, ২০১১ সালে, আমি ‘কবিতার জন্য পাগল’ নামের একটি আইডি খুলি। কবিতার জন্য পাগল, মিথুন কুমার সমাদ্দার দুইটা আইডি থেকেই লেখালেখি চলছিল ভালোই। এরপরে ২০১২ সালের ৪ই নভেম্বর ‘প্রিয় কবিতারা’ গ্রুপে যাত্রা শুরু হয়। তো,এরপরে খুব ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের কোণায় কেণায়, জেলায় জেলায় আমাদের প্রিয় কবিতারা গ্রুপ, কবিদের কবিতা প্রচারে উৎসাহ, উদ্দীপনা যোগাবে। এবং সবাই লিখবে, তাদের পত্রিকা প্রকাশ হবে। প্রতিটা জেলা থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা, বিভিন্ন সাহিত্য সংকলন এভাবেই কাজ শুরু মূলত। এরপরে ২০১৭ সালে প্রিয় কবিতারা গ্রুপের যখন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয় ঢাকাতে  তখন আমাদের প্রিয় কবিতারা গ্রুপ থেকে একটা ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা বের হয় ‘প্রিয় কবিতারা’ নামে। তার আগে অবশ্য প্রিয় কবিতারা সাহিত্য পরিষদ  সিলেট থেকে অনুরণন  নামে একটা পত্রিকা বের হয়েছিল।

আপনার প্রকাশিত বই গুলো সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি…

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : ২০১৭ সালে আমরা বরিশাল, মাগুরা, খুলনাতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি অনুষ্ঠান করি। ঐ সময়ই কথা উঠে,’দাদা আপনার একটা বই’। অনেক কবিতা লেখা আছে তো, অনেক কবিতা লিখেছি; প্রায় ১৫ টা পান্ডুলিপি রেডি আছে আমার। ঐ সময়ও অনেক পান্ডুলিপি রেডি ছিল। সোমা আক্তার সহ আরো অনেকই আমার বই বের করার ব্যাপারে বলেছিলো, সোমাই মূলত প্রথমে বই বের করার প্রস্তাব দেয়। তো এরপরই বই বের হলো। ২০১৮ সালে মহান একুশে বই মেলায় জেব্রা ক্রসিং প্রকাশনী থেকে প্রথম বই ‘কাক-কা-কা’ বের হলো; মোটামুটি ভালোই সাড়া পেয়েছি এরপর ২০১৯ সালে বের হলো আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নড়াচড়া করে ঘুন পোঁকাটা’, ২০০৭/২০০৮ সালে লিখা আমার কিছু ছোট ছোট কবিতা নিয়ে। আর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কাক-কা-কা’ এর কবিতা গুলো লিখেছিলাম ২০১০ এ। আর ২০২০ সালে প্রকাশিত হলো আমার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘এসব খবর হয় না ছাপা স্থানীয় সংবাদে’, কবিতা গুলো ছিলো মূলত ‘কাক-কা-কা’ এর এক্সটেনশন, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লিখা কবিতা গুলো নিয়েই।বই নিয়ে আসলে কি বলবো…নিজের বই নিজের সন্তানের মতো… 

কবিতা নিয়ে কিছু বলুন…

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : আসলে কবিতা আমার কাছে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো হাওয়াই হারিয়ে যায়, মিলিয়ে যায়। আসলে আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যা দেখে যা অনুভব করে পেজে সব তো আর লিখে রাখা সম্ভব না, যেটা একদম মনের ভিতরে মিশে যায় সেইসব কথা বার্তা সাধারণত আমি লিখে রাখি। লিখে রাখলে ভাবনা মৃতও মনে হয় আমার, তাই আমি এখন আর লিখতে চাই না কোনো কিছুই। আমি গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি কবিতার থিম নিয়ে ভাবছি কিন্তু মনে হচ্ছে লিখে ফেললে এসব নিয়ে আর ভাবতে পারবো না। এজন্য লিখতে ভয় করে, মনে হয় যে এসব লিখে ফেললে ভাবনা সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। আসলে দিন দিন সবার সাথে মিশতে মিশতে একটা অন্যরকম বোধ কাজ করে, মনে হয় এখন আর কবিতা ভালোবাসি না। মনে হয় আমি নিজেই একটা কবিতা, কারণ আমি যে হাঁটি-চলি মানুষ বিভিন্ন ভাবে দেখে বিভিন্ন ভাবে পড়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে আলোচনা করে, এই যে ডিফারেন্ট পার্সেপশান এটাই তো কবিতার একটা বৈশিষ্ট্য। সকালে আমি এক রকম, বিকালে আমি এক রকম, রাতে আমি আরেক রকম এই যে বাঁক বদল, বিভিন্ন ভাবে ভাবা, রঙের বৈচিত্র্যতা এটাই আসলে কবিতা।আমি এখন নিজেকে কবিতা বলে দাবি করি। আমি ছড়িয়ে যেতে চাই সবার মাঝে এবং আরো অনেক কবিতাকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যেখানে সবাই সবার হাত ধরে থাকবে, সবাই প্রচন্ড ভালোবাসবে সবাই কে। আমার প্রিয় কবিতারা গ্রুপের মেইন থিংকিংই ছিল কবিতার মাধ্যমে প্রেম বিলানো, সবার সাথে মিলেমিশে থাকা একটা কবিতার পরিবার  তৈরি করা।

প্রিয় কবিতারা গ্রুপের ভাবনাটা কি করে এলো?  

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : ছোটবেলা থেকে তো আমাদের বাবা-মা রা সন্তানদের সাহিত্যিক হতে বলে না, ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হতে বলে। তো আমার ইচ্ছা ছিলো যে এমন একটা সমাজ গঠন যেখানে ছোটবেলা থেকে সাহিত্যের একটা পরিবেশ তৈরি হবে, ছেলেমেয়েরা কবিতা দেখে দেখে বড়ো হবে, কবিতা লিখবে, কবিতা নির্ভর সৎ, সুন্দর জীবন গড়বে। সৎ চিন্তা ভাবনা, উদাস চিন্তা ভাবনা, মুক্ত চিন্তা ভাবনা নিয়ে বড়ো হবে। এসব চিন্তা থেকেই মূলত প্রিয় কবিতারা গ্রুপের ভাবনা মাথায় আসে।

প্রিয় কবিতারা গ্রুপের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন…

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : গ্রুপের বর্তমান কার্যক্রম বলতে গেলে,  ‘প্রিয় কবিতারা সাহিত্য পরিষদ রাজশাহী’ থেকে ‘শব্দ চিত্র সাহিত্য সংকলন’ বের হলো। ‘প্রিয় কবিতারা সাহিত্য পরিষদ বরিশাল’ থেকে ‘তিমির হননের গান’ বের হচ্ছে। ‘প্রিয় কবিতারা সাহিত্য পরিষদ চট্টগ্রাম’ থেকে ‘শব্দ ফানুস’ বের হচ্ছে ‘শব্দ কুঠির’ এর সাথে যৌথ সম্পাদনায়। প্রিয় কবিতারা সাহিত্য পরিষদ চট্টগ্রাম কাজ করছে, এটা ভাবলেই ভালো লাগে। এছড়া বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যে লাইভ করছি, কবিদের জন্মদিন-মৃত্যুদিন পালনের পাশাপাশি ‘কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ’ অনুষ্ঠান করছি নিয়মিত।

প্রিয় কবিতারা গ্রুপ নিয়ে আপনার স্বপ্নটা কী?

মিঠুন কুমার সমাদ্দার : আমি চাই প্রিয় কবিতারা একটা মুক্ত মঞ্চ হবে, শিল্প সাহিত্যের একটা মুক্ত মঞ্চ। যেখানে কবিতা থেকে শুরু করে ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, চিত্র কর্ম, সাহিত্য বিষয় মুভি চলচ্চিত্র এবং বিভিন্ন কিছু, মানে শিল্প সাহিত্যের সব কিছুর সাথে আমরা থাকতে চাই। মূলত ভালোবাসতে চাই মানুষকে, প্রচন্ড ভালোবাসতে চাই। কারো মনে কষ্ট দিতে চাই না। তবুও মাঝে মাঝে অনেকের সাথে রূঢ় আচরণ হয়ে যায়, এটা সময়ের ফের আসলে, মানুষকে কিছু কষ্ট দিয়ে ফেলি।এটা মনে হয় নিতান্ত বাস্তবতা, সে বাস্তবতা থেকে বের হয়ে একজন মুক্ত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখি। আমার ভিতর অনেক খারাপ কিছু আছে, ভন্ডামি আছে, হিংসা আছে, দ্বেষ আছে, বিদ্বেষ আছে, ঈর্ষাপরায়ণতা আছে। কিন্তু আমি এসব থেকে মুক্ত হয়ে ভালো মানুষ হতে চাই, সৎ হতে চাই এবং প্রচন্ড ভালো হয়ে ভালো মানুষের একটা সার্কেল করতে চাই, কলুষতা পাশ কাটিয়ে ভালোর পথে, আলোর পথে যাওয়ার যে জয়যাত্রা সেটা প্রিয় কবিতারা গ্রুপের সাথে থেকে করতে চাই। 

সবাই প্রিয় কবিতারা গ্রুপের সাথে থাকুন, কবিতার সাথে থাকুন।

পুরো বাংলাদেশ কবিতাময় হয়ে উঠুক।

সবাই সবাইকে ভালোবাসুক। 

ধন্যবাদ,  কবিতার জয় হোক।

One thought on “প্রিয় কবিতারার মিঠুন’দা”
  1. আর কি চাই, এভাবেই এগিয়ে চলুক স্বপ্ন যাত্রার পথ বাস্তবতার গলি হয়ে।

Leave a Reply to Oporichita Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *